ঢাকা ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

 মির্জাপুরে অজ্ঞাত নারী ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার। ধর্ষনের আলামত পাওয়া যায়নি ।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫১:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

সোনালী বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুকুরে টানাটানির পর স্থানীয়দের খবরে মাটি খুঁড়ে সম্প্রতি মা ও নবজাতকের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার ৬ দিন পার হলেও এখনও তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
তবে কোন ধর্ষনের আলামত পাওয়া য়ায়নি। দুজনেরই পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এদিকে ওই নারীকে ধর্ষনের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রচারনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, ধর্ষনের আলামত পাওয়া যায়নি ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত ২০ এপ্রিল বিকেল ৬টার সময় উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের গুনটিয়া নদীর পাশে দুর্গন্ধ পান এলাকার কয়েকজন। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নারীর চুল দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ মাটি খুঁড়ে ওই নারী ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে। এলাকাবাসীর ধারণা ৮-১০ দিন আগে ওই গর্ভবতী নারীকে হত্যা করে মাটিতে পুতে রাখা হয়।
মির্জাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল আহমেদ জানান, মাটি খুঁড়ে ওই নারীকে বের করার সময় তার সঙ্গে এক নবজাতকের মরদেহ পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারী প্রায় ৭-৮ মাসের গর্ভবতী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর সময় নবজাতক প্রসব হয়। পরে দুইজনকে মাটিচাপা দেয়া হয়। তাঁদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদেেন্তর জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদিকে অজ্ঞাত ওই নারীকে প্রথমে ধর্ষ ও পরে হত্যা করা হয়েছে এমন খবর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
রোববার এ বিষয়ে জানতে চাইলে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, এক ৬ দিন আগে মির্জাপুরের নদীর তীরে বস্তা বন্দী একটি লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ মাটি খুঁড়ে লাশটি উদ্ধার করে। ধারণা করা হয়েছে মহিলাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বস্তা ভরে মাটি চাপা দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। সদর হাসপাতালের আরএমও এর সাথে আমি কথা বলেছি। তিনি আমাকে জানিয়েছেন ওই মহিলার ময়না তদন্তের পর ধর্ষণের কোন আলামত পাওয় যায়নি। তার ডিএনএ টেস্টের জন্য আলামত রাখা হয়েছে। এই রিপোর্ট আসার পর আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।
পুলিম সুপার আরো জানান, এখন পর্যন্ত ওই মহিলার পরিচয় সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। যেহেতু মির্জাপুর একটি শিল্পাঞ্চল এলাকা। দেশের বিভিন্ন স্থানের লোকজন এখানে কর্মজীবী হিসেবে বসবাস করে। এজন্য অজ্ঞত ওই মহিলার ছবি আমরা দেশের সকল থানায় পাঠিয়ে দিয়েছি। আশা করি দ্রুত সময়ে পরিচয় সনাক্ত করা সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে এই হত্যাকান্ডের জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আলমগীর হোসেন বলেন, ময়নাতদন্তে ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তার বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, তবে আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। দু-এক দিনের মধ্যেই ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, সোমবার (২০এপ্রিল) রাতে উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের গুনটিয়া গ্রামের লৌহজং নদীর সেতুর পাশ থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 মির্জাপুরে অজ্ঞাত নারী ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার। ধর্ষনের আলামত পাওয়া যায়নি ।

আপডেট সময় : ০৭:৫১:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

সোনালী বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুকুরে টানাটানির পর স্থানীয়দের খবরে মাটি খুঁড়ে সম্প্রতি মা ও নবজাতকের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার ৬ দিন পার হলেও এখনও তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
তবে কোন ধর্ষনের আলামত পাওয়া য়ায়নি। দুজনেরই পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এদিকে ওই নারীকে ধর্ষনের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রচারনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, ধর্ষনের আলামত পাওয়া যায়নি ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত ২০ এপ্রিল বিকেল ৬টার সময় উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের গুনটিয়া নদীর পাশে দুর্গন্ধ পান এলাকার কয়েকজন। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নারীর চুল দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ মাটি খুঁড়ে ওই নারী ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে। এলাকাবাসীর ধারণা ৮-১০ দিন আগে ওই গর্ভবতী নারীকে হত্যা করে মাটিতে পুতে রাখা হয়।
মির্জাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল আহমেদ জানান, মাটি খুঁড়ে ওই নারীকে বের করার সময় তার সঙ্গে এক নবজাতকের মরদেহ পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারী প্রায় ৭-৮ মাসের গর্ভবতী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর সময় নবজাতক প্রসব হয়। পরে দুইজনকে মাটিচাপা দেয়া হয়। তাঁদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদেেন্তর জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদিকে অজ্ঞাত ওই নারীকে প্রথমে ধর্ষ ও পরে হত্যা করা হয়েছে এমন খবর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
রোববার এ বিষয়ে জানতে চাইলে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, এক ৬ দিন আগে মির্জাপুরের নদীর তীরে বস্তা বন্দী একটি লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ মাটি খুঁড়ে লাশটি উদ্ধার করে। ধারণা করা হয়েছে মহিলাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বস্তা ভরে মাটি চাপা দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। সদর হাসপাতালের আরএমও এর সাথে আমি কথা বলেছি। তিনি আমাকে জানিয়েছেন ওই মহিলার ময়না তদন্তের পর ধর্ষণের কোন আলামত পাওয় যায়নি। তার ডিএনএ টেস্টের জন্য আলামত রাখা হয়েছে। এই রিপোর্ট আসার পর আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।
পুলিম সুপার আরো জানান, এখন পর্যন্ত ওই মহিলার পরিচয় সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। যেহেতু মির্জাপুর একটি শিল্পাঞ্চল এলাকা। দেশের বিভিন্ন স্থানের লোকজন এখানে কর্মজীবী হিসেবে বসবাস করে। এজন্য অজ্ঞত ওই মহিলার ছবি আমরা দেশের সকল থানায় পাঠিয়ে দিয়েছি। আশা করি দ্রুত সময়ে পরিচয় সনাক্ত করা সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে এই হত্যাকান্ডের জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আলমগীর হোসেন বলেন, ময়নাতদন্তে ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তার বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, তবে আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। দু-এক দিনের মধ্যেই ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, সোমবার (২০এপ্রিল) রাতে উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের গুনটিয়া গ্রামের লৌহজং নদীর সেতুর পাশ থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ।