কালিহাতিতে চলন্ত রেললাইনে ধাক্কা দিয়ে গৃববধুকে হত্যার অভিযোগ,বিচার দাবিতে মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ০৮:১১:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
সোনালী বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক : টাঙ্গাইল কালিহাতির সল্লা মহাসড়কের পাশে চলন্ত রেললাইনের সামনে ধাক্কা দিয়ে মুক্তা নামের গৃহবধু নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগে উঠেছে । এই নৃশংস হত্যাকন্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হযেছে। যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ মুক্তা পারভীন কে (২৮) পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে ঘাতক স্বামী সুজন মিয়া সহ জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিশাল মানববন্ধন করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার।
বুধবার( ১০ জুন) সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে ঘণ্টাব্যাপী কালিহাতির সল্লা মহাসড়কের পাশে রেললাইনে বৃষ্টিতে ভিজে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে শত শত স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত হয়ে খুনিদের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহন করে নিহতেরর স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন । তারা অভিযোগ করে বলেন এটি কোন সাধারন দুর্ঘটনা নয় বরং একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকান্ড । যৌতুকের জন্য ঐ গৃহবধুর উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছিল । সোমবার (৮ জুন) সকাল আনুমানিক ১০ টার দিকে কৌশলে তাকে কালিহাতির সল্লা মহাসড়কের পাশে রেললাইনের পাশে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দুর থেকে ট্রেন আসতে দেখে চলন্ত ট্রেনের নিচে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করা হয় । ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে ।
মানববন্ধনে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে কালিহাতি সল্লা মীরহামজানি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো.সুজন মিয়ার (৩০) সাথে কদিম হামজানি মুক্তা পারভীনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে আছিয়ার বয়স ৬ কছর আর ছোট মেয়ে হুমায়রা বয়স ২ বছর । বিয়ের পর থেকেই সুজন মিয়া সহ তার পরিবার যৌতুকের দাবিতে মুক্তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল।
মেয়ের বড় ভাই মো.শাহাদৎ হোসেন বলেন,২০১৪ সালে প্রেম করে তাদের বিয়ে হয় বিয়ের পর থেকেই তারা অন্যায় ভাবে যৌতুক দাবি করে এবং যৌতুক না দেওয়ার কারনে মা,বাবা ভাই বোন পরিবারের সবাই মিলে অত্যাচার শুরু করে এবং সুজনের বাবা মায়ের কথা আমার ছেলেকে আমরা ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে বিয়ে করাইতে পারবো তোরা যদি এ টাকা না দেস তাহলে তোকে মেরে ফেলবো । সুজনের অন্যন্য মেয়েদের সাথে পরকিয়া সর্ম্পক আছে । ঈদের সময় ছুটি পেয়েও ছুটিতে না এসে সে মেয়েদের সাথে সময় কাটিয়েছে । আমার বোনকে সুজন পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে এ হত্যাকান্ডের সঠিক বিচার এবং ফাঁসি চাই ।
মানববন্ধনে অংশগ্রহন করে মজিদ মাতব্বর সহ অন্যন্য বক্তারা বলেন,যৌতুকের জন্য সুজন এবং সুজনের পরিবার মুক্তার উপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন করেছে কয়েকবার মুক্তা বাবার বাড়ী চলে আসছে বিচার শালিস হইছে মুক্তার হাতে পায়ে ধরে আবার নিয়ে গেছে সুজনসহ সুজনের পরিবার । যৌতুক না দেয়ায় মুক্তাকে সুজন পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে ।সুজনের বিচার ও ফাসিঁ চাই
টাঙ্গাইল ঘারিন্দা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এএসআই এনামুল মোল্লা জানান,মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এটি হত্যাকান্ড কি না, সে বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কালিহাতি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।









