ঢাকা ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃষক সচ্ছল থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৪:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

সোনালী বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এ দেশের কৃষক যদি ভালো ও সুখে থাকে, তাহলে দেশের সমগ্র মানুষ ভালো থাকবে। কৃষক সচ্ছল থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে ২ কোটি ৭৫ লাখ ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার ( ১৪ এপ্রিল ) দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে পহেলা বৈশাখের দিনে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে সদর উপজেলায় ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি স্থানীয় ১৫ জন কিষান– কিষানির হাতে কৃষক কার্ড ও গাছের চারা তুলে দেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, পহেলা বৈশাখ বর্তমানে সামাজিক অনুষ্ঠানে রূপ নিলেও এর শিকড় আমাদের কৃষকদের সঙ্গে স¤পৃক্ত।
কৃষকদের হালখাতা ও হিসাব নিকাশের মাধ্যমেই এই উৎসবের শুরু। তাই এই দিনটিতেই আমরা আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের কাজ শুরু করলাম।
তিনি বলেন, আজকের এই প্রি পাইলটি প্রজেক্টের মাধ্যমে ১১টি উপজেলায় প্রায় ২২ হাজার কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়া হয়েছে। ৫ বছরে ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকদের হাতে পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে।
কৃষিঋণ মওকুফ ও সরকারের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে। এটি সরকারের একটি বড় সাফল্য। পর্যায়ক্রমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত দুই কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি ১০টি ভিন্ন ধরনের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, আমরা আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। এর মাধ্যমে সেচ সমস্যার সমাধান হবে এবং আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেল বা ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। এটি বন্যা নিয়ন্ত্রণেও বড় ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, যার মাধ্যমে আমরা দেখেছিলাম এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষিতে মোটামুটিভাবে ফসলে স্বয়ং সম্পন্ন হয়েছিল এবং যেই বাংলাদেশে আমরা দেখেছিলাম ১৯৭৪ সালে দেশের মানুষ না খেয়ে অসংখ্য মারা গেছিল দুর্ভিক্ষে সেই বাংলাদেশে আমরা দেখেছি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় শুধুমাত্র খাল খনন করার ফলে কৃষক সেচ সুবিধা পাওয়ার ফলে কৃষির উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছিল এবং এই বাংলাদেশ থেকে অল্প পরিমাণে হলেও বিদেশি খাদ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছিল।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার যতবার এই দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, বিএনপি সরকার চেষ্টা করেছে কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। আপনারা বিএনপির উপরে বিগত নির্বাচনে আস্থা রেখেছেন, ইনশাল্লাহ এই সরকার আপনাদের সেই আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দিবে।
আমি বলতে চাই, এখন আমাদেরকে দেশ গড়ার সময়। কৃষক ভাইদের পাশে আমরা যেমন দাঁড়াব, একই সাথে আমরা আমাদের দেশের কৃষাণি বোন সহ আমাদের দেশের যে নারী সমাজ আছে.. এই নারীরা দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা, এই নারী সমাজকে যদি আমরা স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে না পারি- তাহলে এই দেশকে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব না।
আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের উন্নয়ন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। সেজন্যই আমরা বলে থাকি, করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।
দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন আমরা এই দেশের প্রত্যেকটি নাগরিক আমরা রাজনীতি করি বা না করি, আমরা কৃষক হই বা না হই, আমরা ছাত্র হই না হই, আমরা ব্যবসায়ী হই বা না হই, যে মানুষই হয়ে থাকি না কেন, যে পেশার মানুষ হয়ে থাকি না কেন, প্রত্যেকের আমাদের একটি আকাংখা আছেৃ নিজের দেশটিকে আমরা ভালো দেখতে চাই। নিজের দেশটিকে আমরা সুন্দর দেখতে চাই।
আমরা দেখতে চাই- এই দেশের মানুষ নিরাপদে এই দেশে বসবাস করছে। এই দেশের মানুষ এই দেশের সন্তানেরা এদেশেই বড় হচ্ছে,স্বাচ্ছন্দে বড় হচ্ছে, খেয়ে পড়ে, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি করে নিরাপদের সাথে, নিরাপত্তার সাথে বড় হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য সেটাই।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আজকে এই কৃষক কার্ড উদ্বোধন করার মাধ্যমে আবারো আমি বাংলাদেশের সকল শ্রেণি-পেশা সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে আবারো দেশ গঠনের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

টাঙ্গাইলের আনারসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সিজন ফুরিয়ে গেলে অনেক সময় কৃষকরা ফসলের নায্য মূল্য পান না। আমরা পরিকল্পনা করছি প্রতিটি অঞ্চলে কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার নির্মাণের। এছাড়া কৃষিজাত পণ্য বিদেশের বাজারে রপ্তানি করার জন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে কৃষক লাভবান হবে, অন্যদিকে দেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কৃষক সচ্ছল থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৬:২৪:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

সোনালী বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এ দেশের কৃষক যদি ভালো ও সুখে থাকে, তাহলে দেশের সমগ্র মানুষ ভালো থাকবে। কৃষক সচ্ছল থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে ২ কোটি ৭৫ লাখ ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার ( ১৪ এপ্রিল ) দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে পহেলা বৈশাখের দিনে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে সদর উপজেলায় ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি স্থানীয় ১৫ জন কিষান– কিষানির হাতে কৃষক কার্ড ও গাছের চারা তুলে দেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, পহেলা বৈশাখ বর্তমানে সামাজিক অনুষ্ঠানে রূপ নিলেও এর শিকড় আমাদের কৃষকদের সঙ্গে স¤পৃক্ত।
কৃষকদের হালখাতা ও হিসাব নিকাশের মাধ্যমেই এই উৎসবের শুরু। তাই এই দিনটিতেই আমরা আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের কাজ শুরু করলাম।
তিনি বলেন, আজকের এই প্রি পাইলটি প্রজেক্টের মাধ্যমে ১১টি উপজেলায় প্রায় ২২ হাজার কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়া হয়েছে। ৫ বছরে ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকদের হাতে পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে।
কৃষিঋণ মওকুফ ও সরকারের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে। এটি সরকারের একটি বড় সাফল্য। পর্যায়ক্রমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত দুই কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি ১০টি ভিন্ন ধরনের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, আমরা আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। এর মাধ্যমে সেচ সমস্যার সমাধান হবে এবং আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেল বা ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। এটি বন্যা নিয়ন্ত্রণেও বড় ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, যার মাধ্যমে আমরা দেখেছিলাম এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষিতে মোটামুটিভাবে ফসলে স্বয়ং সম্পন্ন হয়েছিল এবং যেই বাংলাদেশে আমরা দেখেছিলাম ১৯৭৪ সালে দেশের মানুষ না খেয়ে অসংখ্য মারা গেছিল দুর্ভিক্ষে সেই বাংলাদেশে আমরা দেখেছি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় শুধুমাত্র খাল খনন করার ফলে কৃষক সেচ সুবিধা পাওয়ার ফলে কৃষির উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছিল এবং এই বাংলাদেশ থেকে অল্প পরিমাণে হলেও বিদেশি খাদ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছিল।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার যতবার এই দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, বিএনপি সরকার চেষ্টা করেছে কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। আপনারা বিএনপির উপরে বিগত নির্বাচনে আস্থা রেখেছেন, ইনশাল্লাহ এই সরকার আপনাদের সেই আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দিবে।
আমি বলতে চাই, এখন আমাদেরকে দেশ গড়ার সময়। কৃষক ভাইদের পাশে আমরা যেমন দাঁড়াব, একই সাথে আমরা আমাদের দেশের কৃষাণি বোন সহ আমাদের দেশের যে নারী সমাজ আছে.. এই নারীরা দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা, এই নারী সমাজকে যদি আমরা স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে না পারি- তাহলে এই দেশকে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব না।
আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের উন্নয়ন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। সেজন্যই আমরা বলে থাকি, করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।
দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন আমরা এই দেশের প্রত্যেকটি নাগরিক আমরা রাজনীতি করি বা না করি, আমরা কৃষক হই বা না হই, আমরা ছাত্র হই না হই, আমরা ব্যবসায়ী হই বা না হই, যে মানুষই হয়ে থাকি না কেন, যে পেশার মানুষ হয়ে থাকি না কেন, প্রত্যেকের আমাদের একটি আকাংখা আছেৃ নিজের দেশটিকে আমরা ভালো দেখতে চাই। নিজের দেশটিকে আমরা সুন্দর দেখতে চাই।
আমরা দেখতে চাই- এই দেশের মানুষ নিরাপদে এই দেশে বসবাস করছে। এই দেশের মানুষ এই দেশের সন্তানেরা এদেশেই বড় হচ্ছে,স্বাচ্ছন্দে বড় হচ্ছে, খেয়ে পড়ে, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি করে নিরাপদের সাথে, নিরাপত্তার সাথে বড় হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য সেটাই।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আজকে এই কৃষক কার্ড উদ্বোধন করার মাধ্যমে আবারো আমি বাংলাদেশের সকল শ্রেণি-পেশা সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে আবারো দেশ গঠনের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

টাঙ্গাইলের আনারসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সিজন ফুরিয়ে গেলে অনেক সময় কৃষকরা ফসলের নায্য মূল্য পান না। আমরা পরিকল্পনা করছি প্রতিটি অঞ্চলে কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার নির্মাণের। এছাড়া কৃষিজাত পণ্য বিদেশের বাজারে রপ্তানি করার জন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে কৃষক লাভবান হবে, অন্যদিকে দেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে।