ঢাকা ০৯:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলে বিএনপি নেতা ফারুক চেয়ারম্যান হত্যা বিচারের দাবিতে আলোচনা সভা ও বিক্ষোভ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

সোনালী বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক :টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপি নেতা ও দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ৩ বারের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হত্যা মামলার ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার শেষ হয়নি। দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে আলোচনা সভা ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্য, দলীয় নেতা-কর্মী ও স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নিরালা মোড়ে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে ।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু,সভাপতিত্ব করেন দাইন্যা ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি মো.সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চলনায় ছিলেন নিহত ফারুকের ছোট ভাই ও দাইন্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম লাভলু মিয়া ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন , তার অপরাধ তিনি বারবার নির্বাচিত দাইন্যা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ,তার অপরাধ জাতীয়তাবাদি শক্তি, তার অপরাধ অন্যায়ের প্রতিবাদকারী ,এ অপরাধের জন্য তাকে জীবন দিতে হয়েছে, এর থেকে আমাদের প্রত্যোকে শিক্ষা নিতে হবে এবং যেকোন অন্যায় অত্যাচার নীপিড়ন এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে এর প্রতবাদে সামিল থাকবো,আমাদের রুখে দাড়াতে হবে , এক ফারুক লোকান্তরে লক্ষ্য ফারুক ঘরে ঘরে ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন , জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ট্রাক মালিক সমতির সভাপতি আশরাফ পাহেলী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো.আজগর আলী ,বাস মিনিবাস মালিক সমিতির আহবায়ক মো. শফিকুর রহমান শফিক,জেলা স্বেচ্ছাদলের সদস্য সচিব সালেহ মোহাম্মদ শাফি ইথেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম ,থানা মহিলা দলের সভাপতি পারুল আক্তার।
আরও বক্তব্য রাখেন দাইন্যা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আবু সাঈদ, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক সাজিদ ইসলাম দিপু,নিহত ফারুকের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ফুয়াদুল ইসলাম অনিক প্রমুখ।
বক্তরা তাদের বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘ ১৩ বছরেও ফারুক চেয়ারম্যান হত্যার বিচার সম্পন্ন না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

আলোচনা সভা শেষে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আদালত চত্বরে গিয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের গেটের সামনে বিক্ষোভ করে বিচার দাবি করেন।
এ সময় এ সময় জেলা বিএনপির ,থানা বিএনপি,শহর বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ গ্রামবাসি সহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজনে ছিলেন ‘শহীদ ফারুক চেয়ারম্যান স্মৃতি সংঘ’ ও পশ্চিম টাঙ্গাইলের সর্বস্তরের জনগন।
উল্লেখ্য,রফিকুল ইসলাম ফারুক টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি প্রাতর্ভ্রমণে বের হন। আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী তাঁর ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহতের ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। প্রথমে সদর থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত শুরু করলেও পরে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

টাঙ্গাইলে বিএনপি নেতা ফারুক চেয়ারম্যান হত্যা বিচারের দাবিতে আলোচনা সভা ও বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৮:৫৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনালী বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক :টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপি নেতা ও দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ৩ বারের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হত্যা মামলার ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার শেষ হয়নি। দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে আলোচনা সভা ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্য, দলীয় নেতা-কর্মী ও স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নিরালা মোড়ে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে ।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু,সভাপতিত্ব করেন দাইন্যা ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি মো.সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চলনায় ছিলেন নিহত ফারুকের ছোট ভাই ও দাইন্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম লাভলু মিয়া ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন , তার অপরাধ তিনি বারবার নির্বাচিত দাইন্যা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ,তার অপরাধ জাতীয়তাবাদি শক্তি, তার অপরাধ অন্যায়ের প্রতিবাদকারী ,এ অপরাধের জন্য তাকে জীবন দিতে হয়েছে, এর থেকে আমাদের প্রত্যোকে শিক্ষা নিতে হবে এবং যেকোন অন্যায় অত্যাচার নীপিড়ন এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে এর প্রতবাদে সামিল থাকবো,আমাদের রুখে দাড়াতে হবে , এক ফারুক লোকান্তরে লক্ষ্য ফারুক ঘরে ঘরে ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন , জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ট্রাক মালিক সমতির সভাপতি আশরাফ পাহেলী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো.আজগর আলী ,বাস মিনিবাস মালিক সমিতির আহবায়ক মো. শফিকুর রহমান শফিক,জেলা স্বেচ্ছাদলের সদস্য সচিব সালেহ মোহাম্মদ শাফি ইথেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম ,থানা মহিলা দলের সভাপতি পারুল আক্তার।
আরও বক্তব্য রাখেন দাইন্যা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আবু সাঈদ, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক সাজিদ ইসলাম দিপু,নিহত ফারুকের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ফুয়াদুল ইসলাম অনিক প্রমুখ।
বক্তরা তাদের বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘ ১৩ বছরেও ফারুক চেয়ারম্যান হত্যার বিচার সম্পন্ন না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

আলোচনা সভা শেষে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আদালত চত্বরে গিয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের গেটের সামনে বিক্ষোভ করে বিচার দাবি করেন।
এ সময় এ সময় জেলা বিএনপির ,থানা বিএনপি,শহর বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ গ্রামবাসি সহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজনে ছিলেন ‘শহীদ ফারুক চেয়ারম্যান স্মৃতি সংঘ’ ও পশ্চিম টাঙ্গাইলের সর্বস্তরের জনগন।
উল্লেখ্য,রফিকুল ইসলাম ফারুক টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি প্রাতর্ভ্রমণে বের হন। আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী তাঁর ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহতের ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। প্রথমে সদর থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত শুরু করলেও পরে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে।