ঢাকা ০৭:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘাটাইলে নিখোঁজের ৪ দিন পর যুবদল নেতার লাশ উদ্ধার, আটক ৫

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৮:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

সোনালী বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক :  টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নিখোঁজের চার দিন পর আমিনুল ইসলাম খান মিন্টু (৩০) নামের এক যুবদল নেতার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৩ জুন) রাত ১২ টার দিকে উপজেলার কাউটেনগর মাছুয়া বিল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি হত্যাকান্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত ৩১ মে রবিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার চাপড়ী বাজার থেকে উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও সন্ধানপুর গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মরহুম আঃ মজিদ মাস্টারের ছোট ছেলে ও ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মিন্টু খান নিখোজ হন। এ ব্যাপারে মিন্টুর বড় ভাই মো. আঃ মান্নান গত ১ মে ঘাটাইল থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করেন। পরে পুলিশ মিন্টু খানকে জীবিত উদ্ধারে চেষ্টা চালান ।

এ ব্যাপারে ঘাটাইল থানা পুলিশ সন্দেহ করে প্রথমে সোহেল রানা (৩৫)কে আটক করন এবং তার তথ্যানুযায়ী পরে আরো ৪ জনকে আটক করলে হত্যার প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসে। তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে মাইচা বিল নামক স্থান থেকে মিন্টুর লাশ উদ্ধার করা হয় বলে ঘাটাইল থানার অফিসার ইন চার্জ মোকছেদুর রহমান জানান। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

নিহত আমিনুল ইসলাম মিন্টু উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের ছনখোলা আমুয়াবাইদ এলাকার আব্দুল মজিদ মাস্টারের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। তিনি গাজীপুরের টঙ্গী পাগার এলাকায় অবস্থিত ‘জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেবিক্স লিমিটেড’ কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। ঈদুল আজহার ছুটিতে তিনি গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন।

নিহত মিন্টুর পরিবার স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তার বড় ভাই আব্দুল মান্নান সংগ্রামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

নিহত মিন্টুর বড় ভাই ও বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নান অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাইকে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করেছিল। আমি আমার ভাই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকছেদুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রায় পানিশূন্য একটি খালের মধ্যে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় মিনটুর লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তেরর প্রতিবেদন পাওয়র পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

ওসি আরও জানান, হত্যাকান্ডেরর রহস্য উন্মোচন ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে স্থানীয় পাঁচজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। তবে তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারের স্বার্থে এখনই তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ঘাটাইলে নিখোঁজের ৪ দিন পর যুবদল নেতার লাশ উদ্ধার, আটক ৫

আপডেট সময় : ০৭:০৮:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

সোনালী বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক :  টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নিখোঁজের চার দিন পর আমিনুল ইসলাম খান মিন্টু (৩০) নামের এক যুবদল নেতার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৩ জুন) রাত ১২ টার দিকে উপজেলার কাউটেনগর মাছুয়া বিল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি হত্যাকান্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত ৩১ মে রবিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার চাপড়ী বাজার থেকে উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও সন্ধানপুর গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মরহুম আঃ মজিদ মাস্টারের ছোট ছেলে ও ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মিন্টু খান নিখোজ হন। এ ব্যাপারে মিন্টুর বড় ভাই মো. আঃ মান্নান গত ১ মে ঘাটাইল থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করেন। পরে পুলিশ মিন্টু খানকে জীবিত উদ্ধারে চেষ্টা চালান ।

এ ব্যাপারে ঘাটাইল থানা পুলিশ সন্দেহ করে প্রথমে সোহেল রানা (৩৫)কে আটক করন এবং তার তথ্যানুযায়ী পরে আরো ৪ জনকে আটক করলে হত্যার প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসে। তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে মাইচা বিল নামক স্থান থেকে মিন্টুর লাশ উদ্ধার করা হয় বলে ঘাটাইল থানার অফিসার ইন চার্জ মোকছেদুর রহমান জানান। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

নিহত আমিনুল ইসলাম মিন্টু উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের ছনখোলা আমুয়াবাইদ এলাকার আব্দুল মজিদ মাস্টারের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। তিনি গাজীপুরের টঙ্গী পাগার এলাকায় অবস্থিত ‘জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেবিক্স লিমিটেড’ কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। ঈদুল আজহার ছুটিতে তিনি গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন।

নিহত মিন্টুর পরিবার স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তার বড় ভাই আব্দুল মান্নান সংগ্রামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

নিহত মিন্টুর বড় ভাই ও বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নান অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাইকে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করেছিল। আমি আমার ভাই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকছেদুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রায় পানিশূন্য একটি খালের মধ্যে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় মিনটুর লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তেরর প্রতিবেদন পাওয়র পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

ওসি আরও জানান, হত্যাকান্ডেরর রহস্য উন্মোচন ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে স্থানীয় পাঁচজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। তবে তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারের স্বার্থে এখনই তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।