ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সৌদি থেকে হঠাৎ মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় দেশে ফিরলেন এক নারী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৩:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ মে ২০১৮ ২০ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার এক নারী অন্য অনেকের মতো স্বপ্ন নিয়ে নয় মাস আগে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। সেখানে বাংলাদেশি টাকায় তাঁর বেতন ছিল ১৯ হাজার ৫০০ টাকা। দেশে পরিবারের কাছে টাকাও পাঠাতেন নিয়মিত। কিন্তু গতকাল শুক্রবার হঠাৎ মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় দেশে ফেরেন এই নারী। স্বজনেরা কেউ কিছু বুঝে উঠতে পারছে না। চিকিৎসকেরাও কিছু বলতে পারছেন না। তিনি এখন শুধু ঘুমাচ্ছেন।

এই নারীর স্থান হয়েছে রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে। দেশে ফেরার পর থেকে তিনি স্পষ্ট করে কোনো কথা বলছেন না। একটু পরপর যে কথা বলছেন, তার কোনা অর্থ বের করতে পারছেন না স্বজনেরা।

আজ শনিবার বিকেলে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অবজারভেশন (পর্যবেক্ষণ) কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, সৌদি ফেরত এই নারী বেঘোরে ঘুমাচ্ছেন, পাশে তাঁর মা বসে আছেন।

পাঁচ বছর বয়সী ছেলে এবং নিজের বাবা-মা ও দুই ভাইয়ের মাসিক খরচের জোগানদাতা ছিলেন এই নারী। তাঁর এ অবস্থার বিষয়ে মা বলছেন, সৌদিতে যাওয়ার পর টেলিফোনে মেয়ের সঙ্গে নিয়মিত কথা হয়েছে। মেয়ে বলত, সে ভালো আছে। ভাইয়ের মুঠোফোনে একটি ছবিও পাঠায়, তাতেও দেখা যায় ভালো আছে। বেতনের টাকাও দেশে পাঠাত। তবে গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে মেয়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হতো না। মেয়ে ফোন না করলে যোগাযোগের আর কোনো উপায় ছিল না।

মেয়ের দেশে ফেরার বিষয়ে এই মা বলেন, মেয়ে প্রায় কঙ্কাল হয়ে দেশে ফিরেছে। সেখানে কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে কি না বা কেন দেশে ফেরত আসল, কিছুই বলছে না। এখন হাসপাতালে আনা হলেও মেয়ের চিকিৎসার জন্য খরচ করার মতো একটি টাকাও তাঁদের হাতে নেই। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের পক্ষ থেকে চিকিৎসা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

অসুস্থ এই নারীর ভাই বলছেন, তাঁরা দুই ভাই, দুই বোন। এক বোনের বিয়ে হয়েছে। সৌদি ফেরত এই বোন সবার বড়। বোনের ছেলের যখন এক বছর বয়স, তখন তাঁর স্বামী তাঁকে ফেলে চলে যান। তারপর থেকে বাবা-ভাইয়ের সংসারেই ছিলেন। এক দালালের মাধ্যমে তাঁর বোন সৌদি আরব যান। দালালকে ঢাকায় আসা যাওয়া বাবদ খরচ ছাড়া আর কোনো খরচ দিতে হয়নি। এরপর সবকিছু ভালোই চলছিল। তারপর হঠাৎ বিমানবন্দর থেকে বাড়িতে ফোন দিয়ে জানানো হয়, তাঁর বোন মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় দেশে ফিরেছেন।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির তথ্য কর্মকর্তা আল-আমিন বলেন, গত শুক্রবার সকালে এই নারী সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন। বিমানবন্দরের কল্যাণ ডেস্ক থেকে ফোন দিয়ে ভারসাম্যহীন এই নারীর কথা জানানো হয়। তখন বিমানবন্দরে এসে প্রথমে এই নারীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি কোনো কথার উত্তর দেননি। পরে পাসপোর্ট থেকে নম্বর নিয়ে ভাইকে ফোন দেওয়া হয়।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অবজারভেশন কক্ষের সিনিয়র স্টাফ নার্স শামূয়েল মণ্ডল বলেন,এই নারীকে অবজারভেশন কক্ষে রাখা হয়েছে। চিকিৎসক দেখে ওষুধ দিয়েছেন।তিনি শারীরিক, মানসিক না যৌন নির্যাতনের শিকার, নাকি অন্য কিছু ঘটেছে, তা তিনি কিছুটা সুস্থ হলে তাঁর কাছ থেকে জানা যাবে। এখন তাঁকে কথা বলার জন্য জোর করা হচ্ছে না।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সৌদি থেকে হঠাৎ মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় দেশে ফিরলেন এক নারী

আপডেট সময় : ০৫:৪৩:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ মে ২০১৮

সাতক্ষীরার এক নারী অন্য অনেকের মতো স্বপ্ন নিয়ে নয় মাস আগে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। সেখানে বাংলাদেশি টাকায় তাঁর বেতন ছিল ১৯ হাজার ৫০০ টাকা। দেশে পরিবারের কাছে টাকাও পাঠাতেন নিয়মিত। কিন্তু গতকাল শুক্রবার হঠাৎ মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় দেশে ফেরেন এই নারী। স্বজনেরা কেউ কিছু বুঝে উঠতে পারছে না। চিকিৎসকেরাও কিছু বলতে পারছেন না। তিনি এখন শুধু ঘুমাচ্ছেন।

এই নারীর স্থান হয়েছে রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে। দেশে ফেরার পর থেকে তিনি স্পষ্ট করে কোনো কথা বলছেন না। একটু পরপর যে কথা বলছেন, তার কোনা অর্থ বের করতে পারছেন না স্বজনেরা।

আজ শনিবার বিকেলে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অবজারভেশন (পর্যবেক্ষণ) কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, সৌদি ফেরত এই নারী বেঘোরে ঘুমাচ্ছেন, পাশে তাঁর মা বসে আছেন।

পাঁচ বছর বয়সী ছেলে এবং নিজের বাবা-মা ও দুই ভাইয়ের মাসিক খরচের জোগানদাতা ছিলেন এই নারী। তাঁর এ অবস্থার বিষয়ে মা বলছেন, সৌদিতে যাওয়ার পর টেলিফোনে মেয়ের সঙ্গে নিয়মিত কথা হয়েছে। মেয়ে বলত, সে ভালো আছে। ভাইয়ের মুঠোফোনে একটি ছবিও পাঠায়, তাতেও দেখা যায় ভালো আছে। বেতনের টাকাও দেশে পাঠাত। তবে গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে মেয়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হতো না। মেয়ে ফোন না করলে যোগাযোগের আর কোনো উপায় ছিল না।

মেয়ের দেশে ফেরার বিষয়ে এই মা বলেন, মেয়ে প্রায় কঙ্কাল হয়ে দেশে ফিরেছে। সেখানে কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে কি না বা কেন দেশে ফেরত আসল, কিছুই বলছে না। এখন হাসপাতালে আনা হলেও মেয়ের চিকিৎসার জন্য খরচ করার মতো একটি টাকাও তাঁদের হাতে নেই। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের পক্ষ থেকে চিকিৎসা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

অসুস্থ এই নারীর ভাই বলছেন, তাঁরা দুই ভাই, দুই বোন। এক বোনের বিয়ে হয়েছে। সৌদি ফেরত এই বোন সবার বড়। বোনের ছেলের যখন এক বছর বয়স, তখন তাঁর স্বামী তাঁকে ফেলে চলে যান। তারপর থেকে বাবা-ভাইয়ের সংসারেই ছিলেন। এক দালালের মাধ্যমে তাঁর বোন সৌদি আরব যান। দালালকে ঢাকায় আসা যাওয়া বাবদ খরচ ছাড়া আর কোনো খরচ দিতে হয়নি। এরপর সবকিছু ভালোই চলছিল। তারপর হঠাৎ বিমানবন্দর থেকে বাড়িতে ফোন দিয়ে জানানো হয়, তাঁর বোন মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় দেশে ফিরেছেন।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির তথ্য কর্মকর্তা আল-আমিন বলেন, গত শুক্রবার সকালে এই নারী সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন। বিমানবন্দরের কল্যাণ ডেস্ক থেকে ফোন দিয়ে ভারসাম্যহীন এই নারীর কথা জানানো হয়। তখন বিমানবন্দরে এসে প্রথমে এই নারীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি কোনো কথার উত্তর দেননি। পরে পাসপোর্ট থেকে নম্বর নিয়ে ভাইকে ফোন দেওয়া হয়।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অবজারভেশন কক্ষের সিনিয়র স্টাফ নার্স শামূয়েল মণ্ডল বলেন,এই নারীকে অবজারভেশন কক্ষে রাখা হয়েছে। চিকিৎসক দেখে ওষুধ দিয়েছেন।তিনি শারীরিক, মানসিক না যৌন নির্যাতনের শিকার, নাকি অন্য কিছু ঘটেছে, তা তিনি কিছুটা সুস্থ হলে তাঁর কাছ থেকে জানা যাবে। এখন তাঁকে কথা বলার জন্য জোর করা হচ্ছে না।