ঢাকা ১১:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সংবিধান রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা চান প্রধানমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৬:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ১১ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে আমাদের সুদৃঢ় পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে।’

বৃহস্পতিবার নাটোরের কাদিরাবাদ সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের ৬ষ্ঠ কোর পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার ভাই শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। দ্বিতীয় ভাই শহীদ লে. শেখ জামাল ১৯৭৫ সালে রয়েল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ড হার্স্ট্রে নিয়মিত প্রশিক্ষণ শেষে কমিশন লাভ করে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।

ছোট ভাই রাসেলেরও ইচ্ছা ছিল বড় হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার। কিন্তু ১৯৭৫ সালেরর ১৫ আগস্ট ঘাতকরা সবাইকে নির্মমভাবে হত্যা করে। আমি আপনাদের মাঝে আমার হারানো ভাইদের খুঁজে পাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী একাগ্রতা, কর্মদক্ষতা এবং নানাবিধ জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য সার্বজনীন আস্থা ও ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে সেনাসদস্যদের গৌরবজ্জ্বল ভূমিকা দেশের ভাবমূর্তি বিশ্বে উজ্জ্বল করেছে।

তিনি বলেন, যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দুর্গত মানুষের সহায়তা করে সেনাবাহিনী অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মিয়ানমার থেকে বাস্তুহারা নাগরিকরা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

আমাদের সেনাবাহিনীর সহায়তায় আমরা অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সেখানে তাদের অবস্থানের ব্যবস্থা করেছি। রিলিফ বিতরণ থেকে সার্বিক দায়িত্ব পালনে আমাদের সশস্ত্রবাহিনী সেখানে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র সংবিধান ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় আপনাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আধুনিক, উন্নত ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সেনাবাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে হবে।

তিনি বলেন, কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। এ কোরের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ও আত্মত্যাগের ইতিহাস। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। থ্রিজির পরে ফোরজি যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বাংলাদেশকে বিশ্বের মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। এজন্য সকলকে এক সাথে কাজ করতে হবে। কোনো অশুভ ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যেন দেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে না পারে, সে জন্য সকলেকে সজাগ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই না কোনো সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্ত আমাদের সমাজকে নষ্ট করুক। আমরা দেশের মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বিশ্বের দরবারে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াবো। আর্থসামাজিক উন্নয়নে আজকে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছি।

জাতির পিতা শুধু একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলেননি। তার সময়ে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছিল।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন আমরা সরকারে আছি। এ কারণেই বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন আর স্বল্পোন্নত দেশ নয়, আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জন করেছি।

এজন্য তিনটি জিনিস অর্জন করতে হয়। আমরা সবকটি অর্জন করেছি। ফলে আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণ করতে যাচ্ছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সংবিধান রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা চান প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৬:২৬:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে আমাদের সুদৃঢ় পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে।’

বৃহস্পতিবার নাটোরের কাদিরাবাদ সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের ৬ষ্ঠ কোর পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার ভাই শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। দ্বিতীয় ভাই শহীদ লে. শেখ জামাল ১৯৭৫ সালে রয়েল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ড হার্স্ট্রে নিয়মিত প্রশিক্ষণ শেষে কমিশন লাভ করে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।

ছোট ভাই রাসেলেরও ইচ্ছা ছিল বড় হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার। কিন্তু ১৯৭৫ সালেরর ১৫ আগস্ট ঘাতকরা সবাইকে নির্মমভাবে হত্যা করে। আমি আপনাদের মাঝে আমার হারানো ভাইদের খুঁজে পাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী একাগ্রতা, কর্মদক্ষতা এবং নানাবিধ জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য সার্বজনীন আস্থা ও ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে সেনাসদস্যদের গৌরবজ্জ্বল ভূমিকা দেশের ভাবমূর্তি বিশ্বে উজ্জ্বল করেছে।

তিনি বলেন, যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দুর্গত মানুষের সহায়তা করে সেনাবাহিনী অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মিয়ানমার থেকে বাস্তুহারা নাগরিকরা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

আমাদের সেনাবাহিনীর সহায়তায় আমরা অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সেখানে তাদের অবস্থানের ব্যবস্থা করেছি। রিলিফ বিতরণ থেকে সার্বিক দায়িত্ব পালনে আমাদের সশস্ত্রবাহিনী সেখানে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র সংবিধান ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় আপনাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আধুনিক, উন্নত ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সেনাবাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে হবে।

তিনি বলেন, কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। এ কোরের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ও আত্মত্যাগের ইতিহাস। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। থ্রিজির পরে ফোরজি যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বাংলাদেশকে বিশ্বের মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। এজন্য সকলকে এক সাথে কাজ করতে হবে। কোনো অশুভ ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যেন দেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে না পারে, সে জন্য সকলেকে সজাগ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই না কোনো সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্ত আমাদের সমাজকে নষ্ট করুক। আমরা দেশের মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বিশ্বের দরবারে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াবো। আর্থসামাজিক উন্নয়নে আজকে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছি।

জাতির পিতা শুধু একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলেননি। তার সময়ে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছিল।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন আমরা সরকারে আছি। এ কারণেই বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন আর স্বল্পোন্নত দেশ নয়, আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জন করেছি।

এজন্য তিনটি জিনিস অর্জন করতে হয়। আমরা সবকটি অর্জন করেছি। ফলে আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণ করতে যাচ্ছি।