ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাসিক নির্বাচনে জামায়াতের অভিমান, বিপাকে বুলবুল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৪:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮ ২১ বার পড়া হয়েছে

আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ২০১৮। উক্ত নির্বাচনে মেয়র পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে এবারের নির্বাচনে ভোটের মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে। রাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। বিএনপি থেকে এবারের রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছেন নগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। ইতোমধ্যে উৎসব মুখর পরিবেশে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে।

কর্মী সমর্থকদের ঐক্য এবং ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মেয়র থাকাকালীন সময়ে সম্পন্ন করা বহুমুখী উন্নয়ন কাজের উপর ভর করে বেশ সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন লিটন। এদিকে জোটসহ নিজ দলের অন্তঃকোন্দল নিয়ে বিপাকে রয়েছে বুলবুল।

বুলবুলের কয়েকজন কর্মী সমর্থকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এবারের নির্বাচনে বুলবুলের সব থেকে বড় বিপদের নাম জামায়াত। তারা অভিযোগ করে বলেন জামায়েতের নেতাকর্মীরা বুলবুলের পক্ষে কাজ করা তো দূরে থাক উল্টো তারা গোপনে গোপনে খায়রুজ্জামান লিটনের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহীর জামায়াতের একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে এক প্রকার অভিমান নিয়েই বুলবুলের নির্বাচনী প্রচারণা থেকে দূরে রয়েছেন তারা। তবে লিটনের পক্ষে কাজ করার অভিযোগকে বিএনপির নেতাকর্মীদের মনগড়া অভিযোগ বলে উড়িয়ে দিয়েছে জামায়েত নেতা কর্মীরা।

জামায়াতের নেতারা উল্টো অভিযোগ করে বলেন বিএনপি আমাদের কথা দিয়েও কথা রাখেনি। ২০১৩ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে জয়ী করতে পারলে পরবর্তী নির্বাচনে আমাদের দলের কাউকে ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়া হবে বলে কথা দিয়েছিলো বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। কিন্তু বিএনপি তাদের কথা না রেখে এবারো তাদের নিজদলীয় নেতাকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে।

এদিকে নগরীর একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে জামায়াতের এমন অভিমান বাড়তে থাকলে বিএনপির প্রার্থীকে তার জন্য ভয়ঙ্কর খেসারত দিতে হতে পারে। ২০১৩ সালের নির্বাচনে বুলবুলের জয়ের পেছনে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। এবার জামায়াত ছাড়াও রাজশাহী অঞ্চলের অন্যতম বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনুর সাথেও দ্বন্দ্ব রয়েছে বুলবুলের। কয়েকমাস আগে বুলবুল ও মিজানুর রহমান মিনুর কর্মী সমর্থকরা তাদের সামনেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে বিপাকে রয়েছেন বুলবুল। এমনটাই মত দিয়েছেন একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রাসিক নির্বাচনে জামায়াতের অভিমান, বিপাকে বুলবুল

আপডেট সময় : ০৬:০৪:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮

আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ২০১৮। উক্ত নির্বাচনে মেয়র পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে এবারের নির্বাচনে ভোটের মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে। রাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। বিএনপি থেকে এবারের রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছেন নগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। ইতোমধ্যে উৎসব মুখর পরিবেশে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে।

কর্মী সমর্থকদের ঐক্য এবং ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মেয়র থাকাকালীন সময়ে সম্পন্ন করা বহুমুখী উন্নয়ন কাজের উপর ভর করে বেশ সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন লিটন। এদিকে জোটসহ নিজ দলের অন্তঃকোন্দল নিয়ে বিপাকে রয়েছে বুলবুল।

বুলবুলের কয়েকজন কর্মী সমর্থকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এবারের নির্বাচনে বুলবুলের সব থেকে বড় বিপদের নাম জামায়াত। তারা অভিযোগ করে বলেন জামায়েতের নেতাকর্মীরা বুলবুলের পক্ষে কাজ করা তো দূরে থাক উল্টো তারা গোপনে গোপনে খায়রুজ্জামান লিটনের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহীর জামায়াতের একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে এক প্রকার অভিমান নিয়েই বুলবুলের নির্বাচনী প্রচারণা থেকে দূরে রয়েছেন তারা। তবে লিটনের পক্ষে কাজ করার অভিযোগকে বিএনপির নেতাকর্মীদের মনগড়া অভিযোগ বলে উড়িয়ে দিয়েছে জামায়েত নেতা কর্মীরা।

জামায়াতের নেতারা উল্টো অভিযোগ করে বলেন বিএনপি আমাদের কথা দিয়েও কথা রাখেনি। ২০১৩ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে জয়ী করতে পারলে পরবর্তী নির্বাচনে আমাদের দলের কাউকে ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়া হবে বলে কথা দিয়েছিলো বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। কিন্তু বিএনপি তাদের কথা না রেখে এবারো তাদের নিজদলীয় নেতাকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে।

এদিকে নগরীর একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে জামায়াতের এমন অভিমান বাড়তে থাকলে বিএনপির প্রার্থীকে তার জন্য ভয়ঙ্কর খেসারত দিতে হতে পারে। ২০১৩ সালের নির্বাচনে বুলবুলের জয়ের পেছনে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। এবার জামায়াত ছাড়াও রাজশাহী অঞ্চলের অন্যতম বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনুর সাথেও দ্বন্দ্ব রয়েছে বুলবুলের। কয়েকমাস আগে বুলবুল ও মিজানুর রহমান মিনুর কর্মী সমর্থকরা তাদের সামনেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে বিপাকে রয়েছেন বুলবুল। এমনটাই মত দিয়েছেন একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।