ঢাকা ০২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুলাই ২০২৪, ২২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলের কালিহাতীর সল্লায় শিশু ধর্ষনের অভিযোগ : সালিশের কারনে ধর্ষিতা গ্রামছাড়া

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৮:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮ ২০ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার দেউপুর গ্রামে ৭ বছরের এক শিশু ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গ্রাম্য সালিশে শিশুটি বর্তমানে গ্রামছাড়া হয়েছে। সে প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা দিনমজুর। বর্তমানে এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, দেউপুর গ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম (৫০) তার লেয়ার মুরগির ফার্মে ডিম দেয়ার কথা বলে শিশুটিকে ডেকে নেয়। এরপর মুখে কাপড় চাপা দিয়ে ধর্ষণ করে। ছুরি দিয়ে জবাই করার হুমকি দিয়ে কারো কাছে না বলার জন্য শিশুটিকে ভয় দেখায়।

এদিকে গত শনিবার থেকে ঘটনাটি জানাজানির পর এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার রাতে বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য গ্রাম্য সালিশ বসে। সালিশে সিদ্ধান্তের পর ধর্ষণের শিকার ওই শিশুটিকে মাতবররা গ্রামছাড়া করেছে বলে স্থানীয়রা জানান। এদিকে অভিযুক্ত আব্দুস সালামের বাড়িতে ও মুরগীর ফার্মে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে দেউপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন বলেন, শুনেছি আমাদের ওই ছাত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। সোমবার প্রথম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের বাংলা পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষায় ওই ছাত্রী অংশগ্রহণ করেনি। কোথায় গেছে আমি বলতে পারবো না।

সল্লা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আনিছুর রহমান বলেন, এই বিষয়টি রোববার রাতে সালিশ হয়নি কিন্তু মিমাংসা হয়েছে।

ধর্ষণের শিকার শিশুটির বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।স্থানীয় আয়েশা বেগম ও চান খাতুনসহ অনেকেই জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তি শহিদুল ইসলাম (শহীদ) সোমবার সকালে এসে সবাইকে শাসিয়ে বলে গেছেন “বিষয়টি তোরা কারো কাছে বলবি না”।

ধর্ষিতার মা বলেন, “হুনছি এলাকার মাতবররা ম্যালা রাইতে এইডা মিটমাট করছে। ভোর বেলায় ম্যায়ার চাচার সাথে ম্যায়াকে পাঠাইয়া দিছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাম্মৎ শাহীনা আক্তার জানান, এই ধর্ষণের ঘটনাটি আমার জানা নেই। বিষয়টি আমি দেখছি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

টাঙ্গাইলের কালিহাতীর সল্লায় শিশু ধর্ষনের অভিযোগ : সালিশের কারনে ধর্ষিতা গ্রামছাড়া

আপডেট সময় : ১০:০৮:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার দেউপুর গ্রামে ৭ বছরের এক শিশু ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গ্রাম্য সালিশে শিশুটি বর্তমানে গ্রামছাড়া হয়েছে। সে প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা দিনমজুর। বর্তমানে এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, দেউপুর গ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম (৫০) তার লেয়ার মুরগির ফার্মে ডিম দেয়ার কথা বলে শিশুটিকে ডেকে নেয়। এরপর মুখে কাপড় চাপা দিয়ে ধর্ষণ করে। ছুরি দিয়ে জবাই করার হুমকি দিয়ে কারো কাছে না বলার জন্য শিশুটিকে ভয় দেখায়।

এদিকে গত শনিবার থেকে ঘটনাটি জানাজানির পর এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার রাতে বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য গ্রাম্য সালিশ বসে। সালিশে সিদ্ধান্তের পর ধর্ষণের শিকার ওই শিশুটিকে মাতবররা গ্রামছাড়া করেছে বলে স্থানীয়রা জানান। এদিকে অভিযুক্ত আব্দুস সালামের বাড়িতে ও মুরগীর ফার্মে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে দেউপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন বলেন, শুনেছি আমাদের ওই ছাত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। সোমবার প্রথম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের বাংলা পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষায় ওই ছাত্রী অংশগ্রহণ করেনি। কোথায় গেছে আমি বলতে পারবো না।

সল্লা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আনিছুর রহমান বলেন, এই বিষয়টি রোববার রাতে সালিশ হয়নি কিন্তু মিমাংসা হয়েছে।

ধর্ষণের শিকার শিশুটির বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।স্থানীয় আয়েশা বেগম ও চান খাতুনসহ অনেকেই জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তি শহিদুল ইসলাম (শহীদ) সোমবার সকালে এসে সবাইকে শাসিয়ে বলে গেছেন “বিষয়টি তোরা কারো কাছে বলবি না”।

ধর্ষিতার মা বলেন, “হুনছি এলাকার মাতবররা ম্যালা রাইতে এইডা মিটমাট করছে। ভোর বেলায় ম্যায়ার চাচার সাথে ম্যায়াকে পাঠাইয়া দিছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাম্মৎ শাহীনা আক্তার জানান, এই ধর্ষণের ঘটনাটি আমার জানা নেই। বিষয়টি আমি দেখছি।