ঢাকা ০৫:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চালু হচ্ছে ভারতের বৃহত্তম রেলসেতু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ মে ২০১৮ ১৩ বার পড়া হয়েছে

 

 

 

এ বছরেই চালু হচ্ছে ভারতের বৃহত্তম রেলসেতু। আসামে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ৪ দশমিক ৯৪০ কিলোমিটার সেতুটি চালু হলে চীন সীমান্তবর্তী অরুণাচল প্রদেশের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। সামরিক বাহিনীর পক্ষেও দ্রুত সরঞ্জাম নিয়ে সীমান্তে পৌঁছানো সহজ হবে।

চীনের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত প্রায় ৪০০ কিলোমিটার এলাকার। এর ৭৫ শতাংশই অরুণাচল প্রদেশে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই পাহাড়ি রাজ্যের গুরুত্ব ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সেদিকে লক্ষ্য রেখে দীর্ঘদিন ধরেই অরুণাচলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে মন দেয় ভারত।

আসামে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপরেই ২০১৭ সালে ৯ দশমিক ১৫ কিলোমিটার ভূপেন হাজারিকা সেতুর উদ্বোধন করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সব ঠিকমতো চললে চলতি বছরেই উদ্বোধন হবে বগিবিল সেতুরও।

আসামের ধেমাজি ও ডিব্রুগড়ের মধ্যে নির্মিত হচ্ছে এই রেলসেতু। সেতুটি নির্মিত হলে ডিব্রুগড় থেকে অরুণাচলের রেল বা সড়কপথে দূরত্ব ৫০০ থেকে কমে হবে ১০০ কিলোমিটার। শুধু তা-ই নয়, ভারী ভারী সামরিক সরঞ্জাম বহনও সহজতর হবে।

১৯৯৬ সালে প্রকল্পটি হাতে নেয় অটল বিহারী বাজপেয়ির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। বাজপেয়ির আমলেই ২০০২ সালের ২১ এপ্রিল শুরু হয় প্রকল্প নির্মাণের কাজ। ২০০৭ সালে মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য প্রকল্পটিকে জাতীয় প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা করে।

ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে ৩২ মিটার উঁচুতে নির্মিত বগাবিল সেতুর একেবারে ওপরে থাকছে তিন লেনের সড়ক। তার নিচে থাকবে রেললাইন।

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলসূত্র জানায়, পুরো প্রকল্পের জন্য খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলই এই প্রকল্প রূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছে।

এই রেলসেতুর নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন ও গাড়ি চালানোও হয়েছে নির্বিঘ্নে। এক-দুই মাসের মধ্যেই পুরো কাজ শেষ হয়ে যাবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে চলতি বছরেই সেতুটি চালু হবে বলেও বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

চালু হচ্ছে ভারতের বৃহত্তম রেলসেতু

আপডেট সময় : ০৫:১৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ মে ২০১৮

 

 

 

এ বছরেই চালু হচ্ছে ভারতের বৃহত্তম রেলসেতু। আসামে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ৪ দশমিক ৯৪০ কিলোমিটার সেতুটি চালু হলে চীন সীমান্তবর্তী অরুণাচল প্রদেশের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। সামরিক বাহিনীর পক্ষেও দ্রুত সরঞ্জাম নিয়ে সীমান্তে পৌঁছানো সহজ হবে।

চীনের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত প্রায় ৪০০ কিলোমিটার এলাকার। এর ৭৫ শতাংশই অরুণাচল প্রদেশে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই পাহাড়ি রাজ্যের গুরুত্ব ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সেদিকে লক্ষ্য রেখে দীর্ঘদিন ধরেই অরুণাচলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে মন দেয় ভারত।

আসামে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপরেই ২০১৭ সালে ৯ দশমিক ১৫ কিলোমিটার ভূপেন হাজারিকা সেতুর উদ্বোধন করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সব ঠিকমতো চললে চলতি বছরেই উদ্বোধন হবে বগিবিল সেতুরও।

আসামের ধেমাজি ও ডিব্রুগড়ের মধ্যে নির্মিত হচ্ছে এই রেলসেতু। সেতুটি নির্মিত হলে ডিব্রুগড় থেকে অরুণাচলের রেল বা সড়কপথে দূরত্ব ৫০০ থেকে কমে হবে ১০০ কিলোমিটার। শুধু তা-ই নয়, ভারী ভারী সামরিক সরঞ্জাম বহনও সহজতর হবে।

১৯৯৬ সালে প্রকল্পটি হাতে নেয় অটল বিহারী বাজপেয়ির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। বাজপেয়ির আমলেই ২০০২ সালের ২১ এপ্রিল শুরু হয় প্রকল্প নির্মাণের কাজ। ২০০৭ সালে মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য প্রকল্পটিকে জাতীয় প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা করে।

ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে ৩২ মিটার উঁচুতে নির্মিত বগাবিল সেতুর একেবারে ওপরে থাকছে তিন লেনের সড়ক। তার নিচে থাকবে রেললাইন।

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলসূত্র জানায়, পুরো প্রকল্পের জন্য খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলই এই প্রকল্প রূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছে।

এই রেলসেতুর নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন ও গাড়ি চালানোও হয়েছে নির্বিঘ্নে। এক-দুই মাসের মধ্যেই পুরো কাজ শেষ হয়ে যাবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে চলতি বছরেই সেতুটি চালু হবে বলেও বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে।