ঢাকা ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুলাই ২০২৪, ২১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এলিনার প্রেমিকের পাশেই থাকা হল তবে মৃত্যুর পর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মার্চ ২০১৮ ১৭ বার পড়া হয়েছে

বাসাইল প্রতিনিধিঃ এলিনা নবম শ্রেণির ছাত্রী। প্রায় বছর খানেক আগে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। জাহিদুল ও এলিনার,  এরা দুজনেই একই এলাকার। জাহিদুল এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় তাদের মধ্যে  প্রতিদিনই দেখা হতো। ভালই চলছিল তাদের প্রেম। সম্প্রতি জাহিদুলের পরিবার বিষয়টি জানতে পারে। পরে জাহিদুল এলিনাকে বিয়ে করার ইচ্ছে প্রকাশ করে। ছেলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বিয়ে করবে এটা সবার মা-বাবাই চান। প্রতিষ্ঠিত না হয়ে বিয়ে করা যাবে না সাফ জানিয়ে দেয় জাহিদুলের পরিবার। তাই জাহিদুল কোন উপায় না পেয়ে পথ বেছে নেয় আত্মহত্যার । জাহিদুল সকলের অজান্তে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করে।

এদিকে প্রেমিক জাহিদুলের মৃত্যুতে এলিনা একা হয়ে পড়ে। জাহিদুলের মৃত্যুর পর এলিনা কারো সাথে তেমন কথা বলতো না। স্কুলে যাওয়াও বন্ধ করে দেয় এলিনা। সব সময় মনমরা হয়ে থাকতো। প্রেমিকের মৃত্যুর শোকে অবশেষে এলিনা চিরকুট লিখে একই কায়দায় গত ৫ মার্চ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

এলিনা চিরকুটে লিখে যায় তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। মৃত্যুর পর যেন তার লাশ ময়নাতদন্ত না করা হয়। জাহিদুলের কবরের পাশেই তাকে কবর দেয়ার অনুরোধ জানায়। নিময় অনুযায়ী পুলিশ এলিনার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে। তবে এলিনার চিরকুট অনুযায়ী পরিবার তাকে জাহিদুলের কবরের পাশেই কবর দেয়া হয়।

বাসাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মো. নাছিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় পৃথক দুটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। এলিনার একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। জাহিদুল ইসলাম (১৭) বাসাইল উপজেলা বাংড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। এলিনা আক্তার (১৫) একই এলাকার কালু মিয়ার মেয়ে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম লিটন বলেন, ‘ওই ছেলের কবরের পাশেই মেয়েটিকে কবর দেওয়া হয়েছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এলিনার প্রেমিকের পাশেই থাকা হল তবে মৃত্যুর পর

আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মার্চ ২০১৮

বাসাইল প্রতিনিধিঃ এলিনা নবম শ্রেণির ছাত্রী। প্রায় বছর খানেক আগে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। জাহিদুল ও এলিনার,  এরা দুজনেই একই এলাকার। জাহিদুল এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় তাদের মধ্যে  প্রতিদিনই দেখা হতো। ভালই চলছিল তাদের প্রেম। সম্প্রতি জাহিদুলের পরিবার বিষয়টি জানতে পারে। পরে জাহিদুল এলিনাকে বিয়ে করার ইচ্ছে প্রকাশ করে। ছেলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বিয়ে করবে এটা সবার মা-বাবাই চান। প্রতিষ্ঠিত না হয়ে বিয়ে করা যাবে না সাফ জানিয়ে দেয় জাহিদুলের পরিবার। তাই জাহিদুল কোন উপায় না পেয়ে পথ বেছে নেয় আত্মহত্যার । জাহিদুল সকলের অজান্তে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করে।

এদিকে প্রেমিক জাহিদুলের মৃত্যুতে এলিনা একা হয়ে পড়ে। জাহিদুলের মৃত্যুর পর এলিনা কারো সাথে তেমন কথা বলতো না। স্কুলে যাওয়াও বন্ধ করে দেয় এলিনা। সব সময় মনমরা হয়ে থাকতো। প্রেমিকের মৃত্যুর শোকে অবশেষে এলিনা চিরকুট লিখে একই কায়দায় গত ৫ মার্চ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

এলিনা চিরকুটে লিখে যায় তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। মৃত্যুর পর যেন তার লাশ ময়নাতদন্ত না করা হয়। জাহিদুলের কবরের পাশেই তাকে কবর দেয়ার অনুরোধ জানায়। নিময় অনুযায়ী পুলিশ এলিনার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে। তবে এলিনার চিরকুট অনুযায়ী পরিবার তাকে জাহিদুলের কবরের পাশেই কবর দেয়া হয়।

বাসাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মো. নাছিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় পৃথক দুটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। এলিনার একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। জাহিদুল ইসলাম (১৭) বাসাইল উপজেলা বাংড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। এলিনা আক্তার (১৫) একই এলাকার কালু মিয়ার মেয়ে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম লিটন বলেন, ‘ওই ছেলের কবরের পাশেই মেয়েটিকে কবর দেওয়া হয়েছে।’