শিরোনাম
টাঙ্গাইলে স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে স্বেচ্ছায় রক্তদান গ্রুপ নির্ণয় ও ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত       ওয়ারিশান সনদ বলবৎ রাখার দাবীতে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন       পোড়াবাড়ীতে মা’দুর্গা বিসর্জনের আগেই হিন্দুদের ভালবাসায় সিক্ত মিজান       টাঙ্গাইলে সাহিত্য সংসদ পুরস্কার প্রদান ও স্বরচিত কবিতা পাঠ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত       ৪ নং করটিয়া চেয়ারম্যান পদপার্থী মো.আকবর হোসেন       টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয় ভিক্তিক বইপড়া প্রতিযোগীতায় জাহ্নবী স্কুলের হুমায়রা তৃতীয়       ভূঞাপুরে উপ-নির্বাচনে আ’লীগের ১০ প্রার্থী, বি এন পি ১ ,স্বতন্ত্র ১       বিদেশ পাঠানোর কথা বলে প্রতারণা, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন       টাঙ্গাইলে পেশাজীবী গাড়ি চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ       বাসাইলে মহিলা চোর চক্রের চার সদস্য আটক      

ব্যাংক, সরকারি লোন খেলাপী হাফিজুলের বিরুদ্ধে ব্যবসায় অংশিদারের আশ্বাসে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

সোনালী বাংলাদেশ নিউজ
সম্পাদনাঃ ১০ আগস্ট ২০২১ - ০২:৩৭:১৪ পিএম

সোনালী বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক : কোম্পানীর মালিকানায় অংশিদারিত্ব দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. হাফিজুল ইসলাম সোহেল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, সরকারি দপ্তর, ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে পরিশোধ না করার অভিযোগসহ ব্যাংক হিসাবে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে একাধিক মামলা হয়েছে। বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসীর রোষানলে পড়ে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। পুলিশি তদন্তেও তার জালিয়াতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন অভিযুক্ত হাফিজুল।

মামলা ও বিভিন্ন নথি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০১৫ সালে মির্জাপুর উপজেলার পাকুল্লা এলাকায় ‘ম্যাপ এ্যানিমেল কেয়ার লিঃ’ নামে একটি প্রাণীজ ওষুধ তৈরির কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই কোম্পানীর ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. হাফিজুল ইসলাম সোহেল। কোম্পানীর ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর করা হয় মির্জা মাসুদ রুবলকে। এ ছাড়াও দুইজন ডাইরেক্টর হলেন, মো. শাহীন আলম এবং আব্দুল করিম মিয়া।
কোম্পানীর ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মির্জা মাসুদ রুবল বলেন, ‘আমাকে কোম্পানীর এক চতুর্থাংশ শেয়ারের বিনিময়ে ২৫লাখ টাকা নেয়। কিন্তু কোম্পানী চালু হওয়ার পর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও আমাকে লাভ-লোকসানের কোন হিসাব দাখিল করেনি। অপরদিকে আমার স্বাক্ষর জাল করে একটি ব্যাংক হিসাব খুলে লোন নেওয়ার চেষ্টা করলে আমি তার বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালিয়াতির মামলা করি। এ ছাড়াও ব্যবসায় বিনিয়োগ করা টাকা ফেরত না দেওয়ায় আমি তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছি। এই মামলাটি আদালতে স্বাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। তবে স্বাক্ষর জালিয়াতির মামলায় হাফিজুল জামিনে রয়েছে।

একই রকম অভিযোগ করেন স্বল্প মহেড়া গ্রামের সাবেক সেনা সদস্য নুরুল ইসলাম এবং ডুবাইল গ্রামের ব্যবসায়ী শাহিন মিয়া। হাফিজুল নুরুল ইসলামকে দোকান দেওয়ার কথা বলে ৯লাখ টাকা এবং শাহিন মিয়ার কাছ থেকে ব্যবসায় অংশিদার করার কথা বলে ৩০লাখ টাকা নেয়। এ ছাড়াও নাটিয়াপাড়া গ্রামের প্রয়াত এরশাদ মিয়ার স্ত্রী নিলুফা বেগমের কাছ থেকে লভ্যাংশ দেওয়ার কথা বলে ৭লাখ টাকা নেয়। কোন টাকা পরিশোধ না করায় এরা হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

সেহরাতৈল গৌরি গ্রামের মো. আলমগীর হোসেন ও সুফিয়া বেগম বলেন, ‘হাফিজুলের সাথে আমাদের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। কিছুদিন পূর্বে হাফিজুল প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি মোটরসাইকেল বাহিনী নিয়ে এসে আমাদের জমি বেদখল এবং বাড়ির গাছ কেটে নেওয়ার চেষ্টা করে। এলাকাবাসী এগিয়ে এলে তারা তখন সটকে পড়ে।

ডুবাইল ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াস মিয়া বলেন, ‘এ ঘটনায় দোষী যেই হোক তাঁর শাস্তি দাবি করছি।’

এদিকে ব্যবসায়ীক বিধি অনুযায়ী হাফিজুল কোন ধরণের হিসাব দাখিল না করায় জেলা ব্যবসায়ী ঐক্যজোটের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন মির্জা মাসুদ রুবল। এরই প্রেক্ষিতে ব্যবসায়ী ঐক্যজোট কোম্পানীর মালামাল জব্দ করে নিজেদের হেফাজতে রেখে দেয়। এ ঘটনায় হাফিজুল ইসলাম সোহেল মির্জা মাসুদ রুবলের বিরুদ্ধে কোম্পানীর সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আদালত ডিবি (গোয়েন্দা) তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে পুলিশ হাফিজুলের অভিযোগ মিথ্যা বলে প্রতিবেদন দাখিল করে।

হাফিজুল ইসলাম সোহেল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার কাছে যারা টাকা দাবি করে মামলা দায়ের করেছে কিংবা চেক ডিজঅনারের মামলা করেছে সব উদ্দেশ্যমুলক। আমি এদের অনেকের টাকা পরিশোধ করেছি। কেউ কেউ কিছু টাকা পেলেও পুরো টাকা দাবি করে মামলা করেছে। আমার জমি দখল করে উল্টো আমাকেই শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করেছে বলে দাবি করেন সোহেল। তবে তিনি ব্যাংক থেকে নেওয়া ১১লাখ টাকা এখনো পরিশোধ করতে পারেননি বলে স্বীকার করেন।

দেলদুয়ার উপজেলা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, তার পায়ে একটু সমস্যা থাকায় ২০১৭ সালে আমরা তাকে আমাদের সমিতির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করি। কিন্তু তার বিলাশবহুল জীবন-যাপন এবং অনেক মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অনেক অভিযোগ আসে আমাদের কাছে। এ কারনে আমরা তাকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করি।

দেলদুয়ার উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বলেন, ‘হাফিজুল ইসলাম সোহেল আমাদের কাছ থেকে ১৫হাজার টাকা ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহন করে। ২০০৫ সালে ঋণের টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও পুরো টাকা এখনো পরিশোধ করেনি। এজন্য তাকে নোটিশ করা হয়েছে। চ‚ড়ান্ত নোটিশ করার পর তিনি টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর
%d bloggers like this: