শিরোনাম
টাঙ্গাইলে স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে স্বেচ্ছায় রক্তদান গ্রুপ নির্ণয় ও ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত       ওয়ারিশান সনদ বলবৎ রাখার দাবীতে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন       পোড়াবাড়ীতে মা’দুর্গা বিসর্জনের আগেই হিন্দুদের ভালবাসায় সিক্ত মিজান       টাঙ্গাইলে সাহিত্য সংসদ পুরস্কার প্রদান ও স্বরচিত কবিতা পাঠ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত       ৪ নং করটিয়া চেয়ারম্যান পদপার্থী মো.আকবর হোসেন       টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয় ভিক্তিক বইপড়া প্রতিযোগীতায় জাহ্নবী স্কুলের হুমায়রা তৃতীয়       ভূঞাপুরে উপ-নির্বাচনে আ’লীগের ১০ প্রার্থী, বি এন পি ১ ,স্বতন্ত্র ১       বিদেশ পাঠানোর কথা বলে প্রতারণা, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন       টাঙ্গাইলে পেশাজীবী গাড়ি চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ       বাসাইলে মহিলা চোর চক্রের চার সদস্য আটক      

টাঙ্গাইলে ৪ পৌরসভায় মাসের পর মাস বেতন-ভাতা বকেয়া

সোনালী বাংলাদেশ নিউজ
সম্পাদনাঃ ০৬ জুলাই ২০২১ - ০৭:২৫:৪৮ পিএম

সোনালী বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক : টাঙ্গাইলে ১১টি পৌরসভার মধ্যে চারটি পৌরসভার ১৪১ জন কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতন জীবনযাপন করছেন। এতে করে পৌরসভার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। দ্রুত বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পৌরসভার কর্মচারীরা।

জানা যায়, করোনা সংক্রমণের মধ্যেও কাজ করছেন টাঙ্গাইলের ১১টি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কিন্তু এ ১১টি পৌরসভার মধ্যে কালিহাতী, ভূঞাপুর, গোপালপুর এবং ধনবাড়ী পৌরসভার ১৪১ জন কর্মচারীর প্রায় ছয় মাস থেকে তিন বছর পর্যন্ত বেতন বকেয়া রয়েছে। বেতন-ভাতা না পেয়ে এসব কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ মানবেতনর জীবন কাটিয়ে উঠতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পৌরসভার কর্মচারীদের বঞ্চনার শেষ নেই। তারা সরকারি প্র্রতিষ্ঠানের কর্মী হয়েও সরকার প্রদত্ত নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন না। পৌরসভার কর্মচারীদের বেতন খুবই কম। কিন্তু তাও যদি মাসের পর মাস বকেয়া থাকে, তাহলে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। কর্মচারীদের অভিযোগ, পৌরসভার রাজস্ব খাতে নিজস্ব আয় রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দও দেওয়া হয়। কিন্তু সেই বরাদ্দ বা নিজস্ব তহবিল কোনোটাই কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করে না। এ ব্যাপারে নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের দায়ী করেন তারা।

এদিকে করোনা পরিস্থিতিতে রাজস্ব আদায়ে ধসসহ নানা কারণে অধিকাংশ পৌরসভার আয়ের উৎস না থাকায় এমন পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।  

আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইন লঙ্ঘন করে রাজনৈতিক বিবেচনায় পৌরসভাগুলো প্রতিষ্ঠা করার কারণে এর কাঠামো ভেঙে পড়েছে।  

১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কালিহাতী পৌরসভা। এ পৌরসভায় স্থায়ী কর্মচারী ৩৩ জন এবং অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মচারী রয়েছেন ১৫ জন। তাদের মধ্যে অস্থায়ী কর্মচারীদের বেতন-বোনাস ঠিকমত পরিশোধ করলেও স্থায়ী কর্মচারীদের এখনো আট/নয় মাসের বেতন-বোনাস বকেয়াই রয়ে গেছে।কালিহাতী পৌরসভার কার্য সহকারী ফরিদ মিয়া জানান, তারা গত জুন মাসে বেতন-ভাতা পেয়েছেন, কিন্তু তাদের এখন পর্যন্ত আট/নয় মাসের বেতনভাতা বকেয়া রয়ে গেছে। এ বেতনে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে কোনোমতে চলতে হয়। তাও যদি এভাবে মাসের পর মাস বেতন-ভাতা বকেয়া থাকে, তাহলে মানবেতর জীবনযাপন ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।এছাড়া ভূঞাপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৪ সালের ২০ মার্চ। এ পৌরসভায় ৪৫ জন স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। এছাড়া অস্থায়ী ভিত্তিতে রয়েছেন ১৫ জন। তাদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করা হলেও স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন প্রায় দুই থেকে আড়াই মাস বকেয়া রয়ে গেছে। এ কারণে এ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভূঞাপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী সুকমল সরকার জানান, তারা প্রতিমাসে বেতনের অংশটুকু পাচ্ছেন, কিন্তু ভাতাসহ অন্যান্য কিছুই তারা পাচ্ছেন না। এর ফলে প্রায় দুই থেকে আড়াই বছরের ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগসুবিধার টাকা বকেয়া রয়ে গেছে।

১৯৭৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি গোপালপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর এ পৌরসভাটি ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়। কিন্তু এ পৌরসভারই বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-বোনাস বকেয়া রয়েছে দীর্ঘ ১২/১৩ মাস ধরে। এতে করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওইসব কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এ পৌরসভায় ৩৮ জন স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তাদের সবাই গত জুন মাসে বেতন-বোনাস পেয়েছেন। কিন্তু বকেয়া রয়ে গেছে ১২/১৩ মাসের বেতন-বোনাস।

গোপালপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী জাহিদ মিয়া জানান, এ পৌরসভায় রাজস্ব আয় অনেক কম। যা আয় হয়, তাই দিয়ে অস্থায়ী কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়। তা না হলে তারা কাজ করতে চায় না। আর তিনিসহ প্রায় ৩৮ জনের এক-দেড় বছরের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। তিনি অতি দ্রুত বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি জানান।

১৯৯৬ সালের ১২ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত হয় ধনবাড়ী পৌরসভা। এ পৌরসভায় ২৫ জন স্থায়ী ও ২২ জন অস্থায়ী কর্মচারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে স্থায়ী ২৫ জনেরই সাত/আট মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। এতে করে চরম মানবেতন জীবনযাপন করছেন কর্মচারীরা।

ধনবাড়ী পৌরসভার সচিব মো. আব্দুল মান্নান জানান, ধনবাড়ী শহরটি দেখতেই সুন্দর, এখানে রাজস্ব আয় নেই বললেই চলে। এ পৌরসভার বেশিরভাগ অংশ গ্রামের হওয়ায় এখানে রাজস্ব আয় খুবই কম। তাই এ পৌরসভার কর্মচারীদের সাত/আট মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়ে গেছে। সব পৌরসভায় ৭৫ শতাংশ টাকা সরকারিভাবে দিলে হয়তো কোনো পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা বকেয়া থাকবে না। তাই তিনি দ্রুত এর সমাধানের দাবি জানান।

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর
%d bloggers like this: