শিরোনাম
টাঙ্গাইলে যুবদলের ৪২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত       টাঙ্গাইলে ইরফান সেলিমের সহযোগী দিপু গ্রেপ্তার       বাসাইলে স্বামীর বর্বর যৌনসঙ্গমে কিশোরী মৃত্যু       টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবে আজম খানের পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য সংবাদ সম্মেলন       টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সংবাদ সম্মেলন       রায়হান হত্যা মামলার মুল আসামীকে শনাক্ত করা হয়েছে – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী       টাঙ্গাইল এসপি পার্ক মাঠে হা-ডু-ডু খেলার উদ্বোধন       টাঙ্গাইলে পৌরসভায় নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) জাতীয় সড়ক দিবসে আলোচনা সভা       কালিহাতীতে ধর্ষণ হত্যাসহ নারীর প্রতি সহিংসতা নির্যাতন দ্রুত বিচারের প্রতিবাদ       কালিহাতী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আ. লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী শরীফ আহামেদ রাজু’র মতবিনিময় সভা      

টাঙ্গাইলে গজারি বনে সিসা তৈরীর অবৈধ কারখানা

সোনালী বাংলাদেশ নিউজ
সম্পাদনাঃ ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ - ১১:১৩:১৮ পিএম

সোনালী বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক : টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিন আশারিয়া চালা গজারির বাগানে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ক্ষতিকারক সিসা তৈরী কারাখানা। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ধলাপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিন আশারিয়াচালা গ্রামে মনসুরের গজারি বাগানে পুরোনো ব্যাটারি থেকে তৈরী করা হয় সিসা।

গাইবান্ধ্যা থেকে ১৫জন শ্রমিক তারা সারাদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে পুরাতন ব্যাটারী সংগ্রহ করে রাতের আধারে বের করে। এমনকি ভোর হওয়ার আগেই গাড়িতে করে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘাটাইলে গজারির বাগানে কারখানা গড়ে উঠার ফলে মানব দেহ, গবাদী পশু, গাছপালা ক্ষতিসাধন হতে পারে, পরিবেশের উপরে প্রভাব পরতে পারে। দেখা দিতে রোগ বালাই। চিকিৎসকেরা বলছেন, এ ধরনের পদার্থ মানুষের শ্বাসকষ্ট, হৃদ্রোগ ও ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

এক শ্রমিক বললেন, সিসা চকচক করে। দিনের বেলা সিসা ও বর্জ্য চেনা যায় না। এ জন্য রাতে সিসা গলানো হয়। সিসা ফ্যাক্টরিগুলো সারা দিন বন্ধ থাকে। মধ্যরাতে গাড়িতে করে মালামাল এনে কাজ শুরু হয়। আবার ভোর হওয়ার আগেই কাজ শেষ হয়ে যায়। রাতে কাজ করার সময় শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

সিসা তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানান, পরিত্যক্ত ব্যাটারির কোষগুলো সিমেন্টের মতো জমাট বেঁধে যায়। চুল্লির মধ্যে কাঠ ও কয়লা দিয়ে পরতে পরতে অ্যাসিডমিশ্রিত জমাট বাঁধা বর্জ্য সাজানো হয়। এরপর আগুন ধরিয়ে দিয়ে একটি পাম্পের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক পাখা দিয়ে প্রচণ্ড বেগে বাতাস দেওয়া হয়। কাঠ ও কয়লা পুড়ে একটি আগুনের কুণ্ডলী সৃষ্টি হয়। সিসা পুড়ে তরল হয়। এরপর একটি লম্বা চামচ দিয়ে বর্জ্য সরিয়ে সিসা লোহার তৈরি কড়াইতে রাখা হয়। ঘন ধূসর ধোঁয়া চিমনি দিয়ে বের হয়ে যায়।

গজারি বনের ভিতর কাপড় দিয়ে প্রাচীরবেষ্টিত একটি জায়গায় গর্ত করে মাটির চুলার মতো চুল্লি বানানো হয়েছে। সেখানে কাজ করছেন কয়েকজন শ্রমিক।

ঐ গ্রামের বাসিন্দা মোস্তফা কাজী জানান, আমাদের না জানিয়ে তারা এসব করছে। প্রতিবাদ করলে বলে আমাদের অনুমতি আছে।

মোস্তফা কাজী আরও জানান, সিসা ফ্যাক্টরীর কারণে গাছপালা পাতা বিবর্ণ হয়ে ফ্যাকাশে হয়ে যায়। ফসলের ক্ষতি, গবাদি পশু প্রানহানি ঘটতে পারে। সিসা উচ্চ তাপমাত্রায় গলানোর সময় সহযোগি হিসেবে কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন ডাই অক্সাইড, সালফা ডাইড অক্সাইড, সহ বিভিন্ন ক্ষতিকারক যৌগ উৎপাদিত হয় এবং তা দ্রত বাতাসে সঙ্গে চারিদিকে ছড়ায়।

এতে পরিবেশ দুষিত হয় শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও মরনব্যধি ক্যানসারের মতো রোগ মানব শরিরে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে ধলাপড়া বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান মুঠোফোনে জানান, আমি শুনেছি এদের বিরুদ্ধে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর
%d bloggers like this: