শিরোনাম
টাঙ্গাইলে যুবদলের ৪২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত       টাঙ্গাইলে ইরফান সেলিমের সহযোগী দিপু গ্রেপ্তার       বাসাইলে স্বামীর বর্বর যৌনসঙ্গমে কিশোরী মৃত্যু       টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবে আজম খানের পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য সংবাদ সম্মেলন       টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সংবাদ সম্মেলন       রায়হান হত্যা মামলার মুল আসামীকে শনাক্ত করা হয়েছে – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী       টাঙ্গাইল এসপি পার্ক মাঠে হা-ডু-ডু খেলার উদ্বোধন       টাঙ্গাইলে পৌরসভায় নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) জাতীয় সড়ক দিবসে আলোচনা সভা       কালিহাতীতে ধর্ষণ হত্যাসহ নারীর প্রতি সহিংসতা নির্যাতন দ্রুত বিচারের প্রতিবাদ       কালিহাতী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আ. লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী শরীফ আহামেদ রাজু’র মতবিনিময় সভা      

টাঙ্গাইলে ছোট ভাইকে হত্যা ,গ্রেফতার ২

সোনালী বাংলাদেশ নিউজ
সম্পাদনাঃ ২২ আগস্ট ২০২০ - ১১:১৯:৪২ পিএম

সোনালী বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক : টাঙ্গাইলের সখীপুরে পেটে ছুরিকাঘাত ও মুখে বিষ ঢেলে দেওয়ার ২৫ ঘণ্টা পর এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে উপজেলার হাতীবান্ধা ইউনিয়নের হতেয়া বড়চালা এলাকায়। শুক্রবার( ২১ আগস্ট) রাত সোয়া ১০টায় মির্জাপুর কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ওই কৃষক মারা যান।

নিহত ওই কৃষক হতেয়া বড়চালা গ্রামের মৃত মোকদম আলীর ছেলে খোরশেদ আলম (৫৫)। মৃত্যুর এক ঘণ্টা আগে নিহতের ছেলের অভিযোগে  এক নম্বর আসামি নিহতের আপন বড়ভাই মোকছেদ আলী (৬০) ও প্রতিবেশী ছানোয়ার হোসেনকে (৪৫) পুলিশ শুক্রবার রাতেই গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে ওই দুই আসামিকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠিয়েছেন।

মামলার বাদী নিহতের ছেলে আবু হানিফ ও সখীপুর থানা সূত্রে জানা যায়, নিহত খোরশেদ আলমের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বড়ভাই গ্রেপ্তার হওয়া মোকছেদ আলীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। স্থানীয় বাজার থেকে স্ত্রীর ওষুধ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত আনুমানিক নয়টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে বাড়ি থেকে ৩০০গজ দক্ষিণে এসে পৌঁছালে তাঁর বড় ভাই মোকছেদ আলী ও সঙ্গে থাকা আরও তিনজন মিলে তাঁকে জাপটে ধরে কিল-ঘুষি মারতে থাকে।

এক পর্যায়ে সঙ্গে থাকা প্রতিবেশী ছানোয়ার হোসেন তাঁর পেটের বাঁ দিকটায় ছুরি ঢুকিয়ে দেন। পরে চারজনে ধরে জোরপূর্বক মুখে বিষ ঢেলে দেয়। চিৎকারের শদ্ব পেয়ে আশপাশের বাড়ির লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নিজ বাড়িতে পরে রাত ১টার দিকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাত তিনটার দিকে তাঁকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত শুক্রবার দুপুরে আবার তাঁকে মির্জাপুর কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পেটে ছুরিকাঘাতের ক্ষতস্থানে সেলাই থাকায় পেট থেকে পরিপূর্ণ বিষ বের করা সম্ভব না হওয়ায় অবস্থার অবনতি হয় এবং রাত সোয়া ১০টায় মারা যান খোরশেদ আলম।

মামলার বাদী আবু হানিফ বলেন, আমার বাবা মৃতের আগের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত কথা বলতে পেরেছেন। এরপর অজ্ঞান হয়ে পরলে আর জ্ঞান ফিরে আসেনি। বাবা আমাদের সব কাহিনী বলে গেছেন। আমরা বাবার বক্তব্য ভিডিও করে রেকর্ড করে রেখেছি। আমার বাবাকে জোরপূর্বক মুখে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে প্রতিবেশী চাচা ছানোয়ার হোসেন আমার বাবার পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়। তাঁদের চিন্তা ছিল বাবা বিষপানে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার দেবে। কিন্তু বাবা ঘটনার পরও তিন ঘণ্টা কথা বলতে পেরেছেন।

সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুল্লাহ আজ বেলা একটায় বলেন, লাশ মির্জাপুর থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে গ্রহণ করে সুরতহাল প্রতিবেদন করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া আসামি দুইজনকে সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আজ দুপুরে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান উকিল মুঠোফোনে  বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহত খোরশেদ আলমের পেটের বাঁ পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে হাসপাতালের প্রতিবেদনে বিষপানে (আননোন পয়জনিং) বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর
%d bloggers like this: