
জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে গত মঙ্গলবার নিউইয়র্ক গেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একাদশ জাতীয় নির্বাচন ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মিরোস্লাভ জেনকার সঙ্গে বৈঠকে বসেন।
দলের মহাসচিবের জাতিসংঘের বৈঠকে অংশ নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে খোদ বিএনপি মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। বিএনপির অনেক শীর্ষ নেতাই জানতেন না যে, মির্জা ফখরুল জাতিসংঘের আমন্ত্রণে নিউইয়র্ক যাবেন।
জাতিসংঘের তিনটি শর্ত মেনে নেওয়ার কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানা যায়।
জাতিসংঘের প্রথম শর্ত হচ্ছে, সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে বিএনপিকে নির্বাচন করতে হবে। এই প্রস্তাবে রাজি হলেই জাতিসংঘ নির্বাচনে সব দলের সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির সমতা, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির মতো বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলবে। কিন্তু নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিংবা বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ইত্যাদি সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরের বিষয় নিয়ে জাতিসংঘ কথা বলবে না।
জাতিসংঘের দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি যে কর্মসূচিই পালন করুক না কেন তা হতে হবে শান্তিপূর্ণ। অহিংস-শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক চর্চা বলতে নিয়ম মেনে সভা-সমাবেশ ইত্যাদি বোঝায়। কিন্তু ২০১৪ ও ২০১৫ সালের মতো গাড়ি পোড়ানো, বোমা হামলার মতো ঘটনা ঘটাবে না সে বিষয়ে বিএনপিকে কথা দিতে হবে।
জাতিসংঘের তৃতীয় শর্ত হচ্ছে, আইনের নিজস্ব গতি রোধ করে বিএনপি এমন কোনো কার্যকলাপ করতে পারবে না। যেমন বিএনপি চেয়ারপারসন জিয়া এতিমখানা মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন, মামলা চলছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে। এক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার মুক্তির মতো বিষয়গুলোতে অর্থাৎ আইনকে বাধাগ্রস্ত করে এমন কোনো বিষয়ে জাতিসংঘকে অনুরোধ করতে পারবে না বিএনপি।