শিরোনাম
বাংড়া ইউনিয়ন ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উজ্জল হোসেন Headline Bullet       দেলদুয়ারে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে জুতাপেটা Headline Bullet       টাঙ্গাইল জেলা মহিলা দলের সভাপতি নিলুফার ,সম্পাদক রকসি Headline Bullet       টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা গ্রন্থের প্রকাশনা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত Headline Bullet       বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে টুকুর কটুক্তির প্রতিবাদে ভূঞাপুরে আ.লীগের বিক্ষোভ  Headline Bullet       মির্জাপুর পৌরসভাকে আধুনিক পৌরসভায় রুপান্তর করতে চাই—মেয়র সালমা আক্তার শিমুল Headline Bullet       কবি বাবুলের হাতে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের চেক তুলে দিলেন – এমপি শুভ Headline Bullet       বাসাইলে রাস্তার কাজ না করেই টাকা আত্মসাতের অভিযোগ Headline Bullet       ‘হাতুড়ি পেটা করে ছেলেকে হত্যা, মানববন্ধনে খুনিদের ফাঁসি চান মা’ Headline Bullet       টাঙ্গাইলে ট্রাকের পেছনে ধাক্কা লেগে বাসের হেলপার নিহত Headline Bullet      

উদ্বোধন হল রূপপুরের দ্বিতীয় রিয়্যাক্টর: নতুন সম্ভাবনার দিকে বাংলাদেশ

সোনালী বাংলাদেশ নিউজ
সম্পাদনাঃ ১৭ জুলাই ২০১৮ - ১২:১২:৫৫ এএম

স্টাফ রিপোর্টারঃ   ১৪ জুলাই, শনিবার সকালে উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ উদ্বোধন করেন তিনি। তাঁর এই সফর ঘিরেই যত আয়োজন। উল্লেখ্য, বর্তমানে পৃথিবীর ৩১টি দেশে ৪৩৭টি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। গত বছরের ৩০শে নভেম্বর এফসিডি কাজের উদ্বোধনের পর বাংলাদেশ বিশ্বের ৩২তম পারমাণবিক দেশ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

রাশিয়ান ফেডারেশনের সহযোগিতায় ঈশ্বরদীর রূপপুরে পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এর আগে গত বছরের ৩০ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লি বসানোর কাজের উদ্বোধন করেন। আর্ন্তজাতিক আনবিক শক্তি কমিশনের রীতি অনুযায়ী ওই উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পারমাণবিক জগতে প্রবেশ করেছে।

দেশের অব্যাহত বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে ঈশ্বরদীর রূপপুরে। চুক্তি অনুযায়ী ফাষ্ট কংক্রিট পোরিং ডেট বা এফসিডি উদ্বোধনের দিন হতে ৬৩ মাসের মধ্যে এই প্রকল্পে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হবে। সর্বাধুনিক ভিভিইআর’র প্রতিটি ১২০০ মেগাওয়াট ইউনিটের দুটি প্ল্যান্ট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বসানো হচ্ছে, যা নিশ্চিত করবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা।

বিশ্বে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভূমিকা ভূমিকা গত কয়েক দশকে যথেষ্ট বেড়েছে। লন্ডন ভিত্তিক ওয়ার্ল্ড নিউক্লিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্বের ৩১টি দেশে সর্বমোট ৪৩৭ টি নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর ৩৭০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম, যা বিশ্বের বর্তমান চাহিদার ১৩.৫% অংশ পূরণ করে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ১০৪টি রিয়্যাক্টরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১০১ গিগাওয়াট যা দেশটির চাহিদার প্রায় ২০% যোগান দেয়। আর ফ্রান্স তার বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই পূরণ করে পারমাণবিক বিদ্যুতের মাধ্যমে (ক্যাপাসিটি ৬৩ গিগাওয়াট, বিশ্বে দ্বিতীয়)। প্রসঙ্গত, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে রাশিয়ার অবস্থান চতুর্থে (ক্যাপাসিটি ২৩ গিগাওয়াট, ৩৩টি রিয়্যাক্টর)| ওয়ার্ল্ড নিউক্লিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের মতে আগামী দশ বছরে বিশ্বে পারমাণবিক বিদ্যুতের ব্যবহার ৩০% বৃদ্ধি পাবে। আর চীন, ভারত, রাশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ায় এই প্রবৃদ্ধির হার হবে ৬৬%! বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে পারমাণবিক বিদ্যুতের ব্যবহার যেভাবে বেড়ে চলছে, তাতে এই প্রযুক্তি সংক্রান্ত নিরাপত্তার ঝুঁকি বিগত কয়েক দশকে অনেক কমেছে বলেই ধরে নেয়া যায়।

যদিও ২০১১ সালে জাপানের ফুকুশিমার দূর্ঘটনায় অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে ভূমিকম্প ও সুনামির এ বিরল সংমিশ্রণ এবং তৃতীয় প্রজন্মের রিয়্যাক্টরের যান্ত্রিক ত্রুটি সবকিছুর একত্রে ঘটার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তাই অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে, ঝুঁকি, সম্ভাবনা ও অর্থনৈতিক সুবিধা বিবেচনা করলে বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুতের ব্যবহারের সিদ্ধান্ত যথার্থ বলেই গণ্য হয়।

বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। আরো যে বিষয়টি আমাদের চিন্তায় রাখতে হবে তা হল- আমরা উন্নয়নশীল দেশ। আগামীর চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নে আমাদের প্রয়োজন জ্বালানির নিশ্চয়তা। আর তাই আমাদের সামনের পথ হল নবায়নযোগ্য জ্বালানির পথ। আগামী দিনের জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে তাই আমাদের পারমাণবিক জ্বালানির পথে এগুতে হবে।

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর
%d bloggers like this: