শিরোনাম
টাঙ্গাইলে স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে স্বেচ্ছায় রক্তদান গ্রুপ নির্ণয় ও ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত       ওয়ারিশান সনদ বলবৎ রাখার দাবীতে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন       পোড়াবাড়ীতে মা’দুর্গা বিসর্জনের আগেই হিন্দুদের ভালবাসায় সিক্ত মিজান       টাঙ্গাইলে সাহিত্য সংসদ পুরস্কার প্রদান ও স্বরচিত কবিতা পাঠ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত       ৪ নং করটিয়া চেয়ারম্যান পদপার্থী মো.আকবর হোসেন       টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয় ভিক্তিক বইপড়া প্রতিযোগীতায় জাহ্নবী স্কুলের হুমায়রা তৃতীয়       ভূঞাপুরে উপ-নির্বাচনে আ’লীগের ১০ প্রার্থী, বি এন পি ১ ,স্বতন্ত্র ১       বিদেশ পাঠানোর কথা বলে প্রতারণা, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন       টাঙ্গাইলে পেশাজীবী গাড়ি চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ       বাসাইলে মহিলা চোর চক্রের চার সদস্য আটক      

জেলের অভিজ্ঞতা সবার মাঝে প্রকাশ করলেন জনপ্রিয় গায়ক আসিফ

সোনালী বাংলাদেশ নিউজ
সম্পাদনাঃ ১৩ জুন ২০১৮ - ০২:৩৩:২১ পিএম

‘কারাগারে প্রথম ঢোকার পর মনে হয়েছে, মা-বাবা হারিয়ে গেছেন, কোনো ছেলে অনাথ আশ্রমে ঢুকছে। ব্যাগ নিয়ে যখন ঢুকি, তখন তো সাড়ে চারটা বাজে, তালা বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমাকে তালা খুলে ঢোকানো হয়েছে।’ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কারাগারে থাকার অভিজ্ঞতার এভাবেই বর্ণনা দিলেন জনপ্রিয় গায়ক আসিফ আকবর।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে করা মামলায় গত সোমবার জামিন পেয়েছেন আসিফ আকবর। গীতিকার ও সুরকার শফিক তুহিনের করা মামলায় তাঁকে ৫ জুন মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টায় গ্রেপ্তার করা হয়। পাঁচ দিন কারাবাস শেষে আসিফ এখন আবার মনোযোগী হয়েছেন গানে।

কারাগারের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে আসিফ বলেন, ‘আমি যেখানে ছিলাম, সেখানে আরও ১৭ জন কয়েদি ছিলেন। ঢুকেই দেখি সবাই নামাজ পড়ছেন। চারদিকে তাকাই, কিছুক্ষণ পর সবার সঙ্গে মিশে যাই। সারা দিন না-খাওয়া ছিলাম, এরপর খাইলাম। আস্তে আস্তে সবার সঙ্গে সম্পর্ক হয়ে গেল। আড্ডা দেওয়া শুরু করলাম। লুডু খেলা, দাবা খেলা, আরও কত কী! সবার পারিবারিক কাহিনি শুনলাম। কেস ফাইল দেখে সব কয়েদির নামও মুখস্থ করলাম।’

আসিফ আকবর জেল হাসপাতালে ছিলেন। জেল হাসপাতাল ১১-তে আরও ১৭ জন কয়েদি ছিলেন। প্রথমবারের মতো কারাগারে ঢোকার পর শুরুতে একটু মন খারাপ হয়েছে বলে জানান আসিফ। বললেন, ‘আমি তো নির্দোষ, এটা ভেবেই প্রথমে আবেগপ্রবণ হয়ে গিয়েছিলাম। কারাগারে যাওয়ার পর জীবনে প্রথম সরকারি খাবার খেলাম। তবে কারা কর্তৃপক্ষ থেকে সবাই নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসা দিয়েছেন। আর আমার আসার সময় তো সবাই কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছিলেন। সবাইকে ফোন নম্বর দিয়ে এসেছি।’

আসিফ জানান, তিনি যেখানে ছিলেন, সেখানে কয়েদিদের কেউ কেউ বরিশাল, মাদারীপুর ও মেহেরপুরের। তবে সবার সঙ্গে সম্পর্কটা পারিবারিক হয়ে গেছে। একসঙ্গে শেয়ার করে ইফতারি খেয়েছেন, সাহ্‌রিও খেয়েছেন। সব মিলিয়ে পরিবার মনে হয়েছে।

কারাগারে তৃতীয় দিন আসিফ অন্য কয়েদিদের কাচ্চি বিরিয়ানি খাইয়েছেন বলেও জানান। বললেন, ‘আমরা পার্টি করেছি। সবাই মিলে কাচ্চি বিরিয়ানি খেয়েছি। কারাগারে তো কাচ্চি বিরিয়ানি পাওয়া যায় না, বহু কষ্ট করে বানানো হয়। সবাই খুব সহযোগিতাও করেছেন।’

আসিফ জানান, তিনি কাপড় ধুতে পারতেন না, এ কথা জানার পর অন্য কয়েদিরা তাঁর কাপড় ধুয়ে দিতেন। ব্রাশে টুথপেস্টও লাগিয়ে দিতেন। শেভ করার রেজার পর্যন্ত এনে দিতেন। কয়েদিরা যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তা ভোলার নয়। তিনি বলেন, ‘আমার জীবনে শিল্পী হিসেবে এ এক অন্য রকম প্রাপ্তি।’

সর্বশেষ
জনপ্রিয় খবর
%d bloggers like this: